নবীগঞ্জে ডিলারশিপ বাতিলের পরও বানি স্টোরে টিসিবির পণ্য
ইউনিয়ন পরিষদের স্টোররুম থেকে পণ্য সরানোর অভিযোগ, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন
সংগৃহীত ছবি
মো. গোলাম রহমান লিমন, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার পরও সাবেক টিসিবি ডিলারের মালিকানাধীন দোকানে সরকারি ভর্তুকির পণ্য মজুত করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৯ নম্বর বাউসা ইউনিয়নের টিসিবির পণ্য ইউনিয়ন পরিষদের স্টোররুম থেকে সরিয়ে নবীগঞ্জ নতুন বাজারের মেসার্স বানি স্টোরে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন টিসিবির সাবেক ডিলার পিযূষ কান্তি পাল (কেশব)। তাঁর ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার পরও তাঁর মালিকানাধীন মেসার্স বানি স্টোরে টিসিবির পণ্য মজুত ও বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাউসা ইউনিয়নের টিসিবি ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে থাকা অবশিষ্ট পণ্য নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই পণ্য ইউনিয়ন পরিষদের স্টোররুমে থাকার পর সেখান থেকে সরিয়ে সাবেক ডিলারের নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স বানি স্টোরে নেওয়া হয়।
সম্প্রতি বিষয়টি জানার পর বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, পরিষদের স্টোররুম থেকে কয়েকটি বস্তা বের করে একটি টমটমে তোলা হচ্ছে। পরে টমটমটির পিছু নিয়ে নবীগঞ্জ নতুন বাজারে গেলে বস্তাভর্তি পণ্য মেসার্স বানি স্টোরে নেওয়া হচ্ছে বলে দেখা যায়।
এ ঘটনায় ডিলারশিপ বাতিলের পরও সাবেক ডিলারের মালিকানাধীন দোকানে টিসিবির পণ্য কীভাবে গেল এবং কার অনুমতিতে সেখানে পণ্য মজুত করা হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এসব পণ্য কোন সময়ের বরাদ্দের, পরিমাণ কত এবং সেগুলো অবিক্রীত পণ্য কি না, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
মেসার্স বানি স্টোরের মালিক পিযূষ কান্তি পাল (কেশব) তাঁর ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই এসব পণ্য দোকানে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁর কাছে ওই অনুমতির লিখিত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিযূষ কান্তি পাল (কেশব) অতীতে নবীগঞ্জ পৌরসভা ও বাউসা ইউনিয়ন—উভয় এলাকার টিসিবি ডিলার ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্য কার্ডধারী ভোক্তাদের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ না করে দোকানে রেখে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
টিসিবির পণ্য সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকিতে নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হয়। নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে এসব পণ্য মজুত বা বিক্রি করা হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বানি স্টোরে নেওয়া পণ্যগুলো কোন বরাদ্দের, সেগুলোর পরিমাণ কত, ডিলারশিপ বাতিলের পর অবশিষ্ট পণ্য সেখানে নেওয়ার অনুমোদন ছিল কি না এবং থাকলে তা লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট হয়নি।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাসংশ্লিষ্ট ভিডিও সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, ভিডিও সংরক্ষণ করা হলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল টিসিবির পণ্য স্থানান্তর, মজুত ও বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ডিলারশিপ বাতিলের পর অবশিষ্ট পণ্য নির্ধারিত নিয়মে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং বানি স্টোরে পণ্য মজুতের অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে তারা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
কমেন্ট বক্স